খবরের চোখ
সব সময়

৬৯ লাখ টাকার কাজে সাড়ে ৪ কোটি টাকার বিল দাখিল

0

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক:

- Advertisement -

বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত মহাখালী কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৩ কোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. ইকবাল কবীর ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান SRS Design & Fashion Ltd.-এর মালিক মো. সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে এই অনিয়মের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এই বিষয়ে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম। দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কোনো অনুমোদন বা লিখিত কার্যাদেশ ছাড়াই শুধুমাত্র মৌখিক নির্দেশে হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলায় নির্মাণকাজের দায়িত্ব নেয় SRS Design & Fashion Ltd.। কাজ শেষে প্রতিষ্ঠানটি ৪ কোটি ৩৫ হাজার ৪১৩ টাকা ২৮ পয়সা বিল দাখিল করে। তবে নিরপেক্ষ প্রকৌশলীর মাধ্যমে যাচাই করে প্রকৃত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় মাত্র ৬৯ লাখ ৭৩ হাজার ৫৫৯ টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল তৈরি করে সরকারের অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা চালানো হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, অস্বাভাবিক ব্যয়ের
এই বিল হাসপাতাল পরিচালক হয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়। অথচ পুরো প্রক্রিয়ায় ছিল না কোনো দরপত্র, অনুমোদন বা চুক্তিপত্র। ডা. ইকবাল কবীরের প্রত্যক্ষ নির্দেশে ও সহযোগিতায় এই কাজ সম্পন্ন হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থ আত্মসাতের এই পরিকল্পনা ছিল পরিকল্পিত দুর্নীতির অংশ, যাতে জড়িত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫১১, ১২০-খ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অপরাধের যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
দুদক জানায়, বর্তমানে ডা. মো. ইকবাল কবীর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেলথ প্রমোশন ইউনিট (CCHPU)-এর সমন্বয়ক এবং এনআইপিএসওএম-এর এপিডেমিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মো. সাইফুর রহমান SRS Design & Fashion Ltd.-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানটির কর্পোরেট কার্যালয় মহাখালী ডিওএইচএস এলাকায় অবস্থিত। দুদক জানিয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি অর্থ আত্মসাতের এই ধরনের দুর্নীতিকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করার জন্য কমিশনের কার্যক্রম চলমান থাকবে।

- Advertisement -

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.