মো. মারুফ শাহ:
প্রতি বছরের ন্যায় রমজান মাসকে টার্গেট করে একশ্রেণির অতিমুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ী চক্র সিন্ডিকেট তৈরি করে সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রব্যমূল্যের দাম মাত্রাতিরিক্ত বাড়িয়ে দেয় ৷ ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ৷ ক্রয় ক্ষমতার অভাবে অনেকেই পর্যাপ্ত খাদ্য কিনতে না পারায় ঠিকমতো সেহরি ও ইফতার করতে পারে না ৷ লাগামহীন দ্রব্যমূল্য তাদের রোজা পালনে বেশ প্রভাব ফেলে ৷ সারা বছরের তুলনায় রোজা মাসে দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের জীবনমান চরম সংকটে ও দুর্বিষহ হয়ে পরে ৷
রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটতেই থাকে যেন দেশে লাগাম ধরার কেউ নেই ৷ অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট নামক দৈত্যদের কারণে দ্রব্যমূল্যের চড়া দাম ৷ এই চড়া দামের কারণে রোজায় শুধু মুসলমানরা নন অমুসলিমদেরও অনেক কষ্ট হয় ৷ যে কষ্টের কোনো সীমা নেই ৷
দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা মাত্রাতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করে গুদামঘরে মজুদ রাখার কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় ৷ দ্রব্যমূল্যের অতিমাত্রায় বৃদ্ধির কারণে মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে ৷
রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান, কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন, মূল্যতালিকা প্রদর্শনসহ ১৬ সুপারিশ, ঊর্ধ্বগতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণে আইন তৈরি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের কাজ চলছে এসব ছাড়াও আরো কত নির্দেশনা দেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না ৷ সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার তৈরি করতে হলে সরকার, ব্যবসায়ী ও জনগণের সচেতনতা থাকা এবং আইনের প্রয়োগ ঘটানো একান্ত দরকার ৷
১৪ মার্চ ২০২২ তারিখে এক রিটের শুনানিতে হাইকোর্ট বিভাগ মন্তব্য করেছিলেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের মেশিনারিজগুলো (আইন, বিধি, নীতিমালা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, তদারক সংস্থা) ৩৬৫ দিনই সতর্ক ও সোচ্চার থাকতে হবে ৷ এটা একদিনের কাজ নয় ৷ কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি ৷
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায় ৷ তবে দাম বৃদ্ধির মাত্রাটা সহনীয় পর্যায়ে রাখা উচিৎ ৷ পণ্যের ওপর শুল্ক-কর কমানো, খোলা বাজারে বেশি বেশি পণ্য বিক্রি বাড়ানো, উৎপাদন বাড়ানো এবং বাজার তদারকি জোরদার করলে তখনই বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে ৷ শুধু সরকারের একার পক্ষে দ্রব্যমূল্য ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় ৷ এজন্য ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে ৷