কেমন আছো তুমি?
তোমার হাসি শুষ্ক, কড়কড়ে রোদে পুড়ে যাওয়া ঠোঁট বিদীর্ণ
ঝুলে যাওয়া গ্রন্থিতে আউশ পার্বনহীন
পুনশ্চ:
এমন তো কথা ছিল না
সোনালি শিষে বাদামি ফড়িং
ঝরাগ্রস্ত দেবতার অভিশাপে তুমি জীর্ণ
এমন ক্ষেত কেন এলোমেল?
কতদিন বৃষ্টিহীন! এই উর্বর পলিতে জমেছে কাঁকড়।
নিষাদের নিষ্ঠুর বল্লাম, আদুরে ভূঁই আজ অনুর্বর
সবুজ কাঁশ খড়ের গাদায় ইঁদুরের খাবার
শেফালি গন্ধী ভেজা চুল কর্পুরের উন্মাদ বাসনা
এমন তো কথা ছিল না—
জ্যোৎস্নাহীন মেঘে শুধুই কুয়াশা, সূর্যের ওম খড় উত্তাপ
কফি সন্ধ্যার হলুদ গোধুলি, ভাপা পিঠা, কালি জিরা ধান তোমার কল্পনার মাঝখানে হঠাৎই এসে
দাঁড়ানো ফুল হাতে ছোট্ট দুটো বাঁলিহাস
নামহীন, পরিচয়হীন তবুও তোমাকেই ভালবেসে
করুন স্বরে বলতো আপা একটা মালা নেন, বকুলের মালা, একটু ভাত খাব–
ধোঁয়া উঠা ভাতের জন্য মনটা কেমন বিলি কাটছে
যেমন শৈশবে মায়ের আঙুল ধুলো ভরা মাথার চুলে বিলি কাটতো, ঠিক তেমন–
তোমাকে উপোস করতে হবে জেনেও তুমি তাদের ফেরাতে না
বটমুলে কেনা সেই কোমল গন্ধ তোমার বাসর সঙ্গী হয়নি।
আজ যমুনায় শুধুই চর, নীলহীন ঘোলা জলে মরা চাঁদ
জ্যোৎস্না চাইবার বাসনাটুকুও মরে গেছে তাও অনেক কাল
স্বপ্নহীন শস্যের নিকষ আঁধার বেঁধেছ আঁচলে
যে যমুনার প্রসব যন্ত্রণায় তোমার মৃত্যু মেনে নিয়েছিলে ব্রহ্মপুত্ররূপে, তা আজ মৃত —
পুনশ্চ:
এমন তো কথা ছিল না ।
Next Post