ল্যাপটপ ক্রয়ের ব্যাপক দূর্নীতি এসডিএফ ফাউন্ডেশনের
প্রকৃত দাম বাজারে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার, ভাউচারে দেখানো হয়েছে ১,১২,৪৩২ ও ১,১২,৮৩৭ টাকা
খবরের চোখ প্রতিবেদক:
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) এর উদ্যোগে কমিউনিটি রিসোর্স পার্সন (সিআরপি) দের জন্য ল্যাপটপ ক্রয়ের ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, সোশ্যাল ডেভেলেপমন্টে ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) এর গ্রাম সমিতির ক্রয় কমিটির মাধ্যমে ল্যাপটপ ক্রয় করার কথা থাকলেও এসডিএফ প্রধান কার্যালয়ের এমডি, জিএম (ক্রয় ও অ্যাডমিন) এবং এইচ আর এর যোগসাজে ল্যাপটপ ক্রয় করেন। যা গুরুতর অপরাধ ও সরকারের ক্রয় নীতিমালা পরীপন্থী। যার মাধ্যমে এই সব কর্মকর্তারা রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন। ইন্দুরকানী ক্লাষ্টারে ২৫ টি গ্রাম সমিতিতে কমিউনিটি রিসোর্স পার্সন (সিআরপি) দের মাঝে প্রায় দুইমাস হলো ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়েছে।
দুই মাস পূর্বে এসডিএফ কর্মকর্তারা ল্যাপটপ ক্রয় করে সমিতিতে বিতরণ করলেও এখন পর্যন্ত ল্যাপটপ ক্রয়ের কোন রশিদ সমিতিতে দেওয়া হয়নি। অথচ নিয়ম অনুযায়ী এইসব রশিদ সমিতিতে জমা থাকার কথা। তবে সমিতির সদস্যরা বলেন, সাধারনত বড় কোন ইলেকট্রনিক মালামাল ক্রয় করলে দোকান মালিকরা রশিদ দিয়ে দেয় এবং পচিঁশ হাজার টাকার উপরে হলে কোটেশন বা টেন্ডার এর মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করা হয়, এখানে তার কোনো বালাই নাই। আমরা অফিসের কর্মকর্তাদের কথামত সমিতির ব্যাংক একাউন্ট থেকে ল্যাপটপ কেনার জন্য টাকা উঠিয়ে দিলেও এখন পর্যন্ত অফিস থেকে আমাদের কোন রশিদ বা কাগজ ও কেটেশন দেওয়া হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী Asus ব্রান্ডের Asus Expert Book B1 B1503CVA (Business grade) ল্যাপটপ এর মুল্য নিয়েছে ৯৭১০০ টাকা এবং HP ব্রান্ডের HP Pro Book 440 G11 ল্যাপটপের মুল্য ৯৭৪৫০ টাকা, কিন্তু ভাউচারে দেখানো হয়েছে ১,১২,৪৩২ ও ১,১২,৮৩৭ টাকা। কিন্তু ল্যাপটপগুলো পুরাতন মডেলের ও চায়না থেকে রিকন্ডিশনে আনা । প্রকৃত দাম বাজারে ৭০ থেকে ৭৫ হাজারের বেশি না, যা প্রায় ইন্দুরকানী ক্লাষ্টার থেকে প্রায় ১০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার চাড়াখালী, গাবগাছিয়া, রামচন্দ্রপুর, পত্তাশী, খেজুরতলা, সেউতিবাড়িয়া সহ আরো কয়েকটি গ্রাম সমিতির সদস্যরা বলেন- এই মালামাল গুলো নিয়ম অনুযায়ী আমাদের কেনার কথা ছিল কিন্তু তা না করে হেড অফিসের স্যাররা কিনে দেয়, এটা তো নিয়ম না। তা আবার কোন রশিদতো পাইনি। রশিদ আমাদের কাছে থাকার কথা, কবে দিবে তা আমরা জানিনা ।
ল্যাপটপ ক্রয়ের ব্যাপারে ইন্দুরকানির ক্লাষ্টার অফিসারকে কয়েকবার যেয়েও অফিসে পাওয়া যায়নি। জেলা ব্যবস্হাপকও ফোন রিসিভ করেনি। তবে নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক কয়েকজন এসডিএফের কর্মকর্তা জানান, আমাদের যে ভাবে বলে আমরা সে ভাবে কাজ করি। আমরা এর বাইরে যেতে পারি না। সূত্র মতে মোট ৩২৫০টি ল্যাপটপ ক্রয়ে প্রায় ১৫/১৬ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। ল্যাপটপ ক্রয়ের হেড অফিসের বড় বড় কর্মকর্তারা দুর্নীতি সাথে জড়িত থাকতে পারে। ছাএলীগের সাবেক সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ সহযোগী জিএম (ক্রয় ও এ্যাডমিন) হেদায়েতুল্লাহ এমডিকে তেলবাজি করে অত্যন্ত সুচতুরভাবে তার আস্থাভাজনে পরিনত হন। অপরদিকে এমডির আরেক বিশ্বস্ত সহযোগী ও বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের সুবিধাভোগী জিএম (এইচ আর) শহিদুল্লাহ ও এসব প্রক্রিয়ার সহিত জড়িত বলে জানা গেছে। তারা এমডির ছত্রছায়ায় মাননীয় চেয়ারম্যান সাহেবকে উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে নিয়ম বহির্ভূত কাজগুলো করছেন। এমডি নূরুল আমিন সাহেব অবৈধ আয়ের পথ পরিষ্কার করার জন্য জিএম (অ্যাডমিনকে) ক্রয় ও আইসি এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন। অপরদিকে অদক্ষ জিএম (আইসিবি) কে নিয়ম বর্হিভূত ভাবে দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তা জিএম (এইচ আর) তৌফিক সাহেবকে তার পদ থেকে কৌশলে সরিয়ে দিয়ে জিএম (এইচ আর) এর দায়িত্ব দেন। যাতে পুরাতন কর্মীদের বাদ দিয়ে নতুন কর্মী নিয়োগ করে বানিজ্যের পথ সুগোম হয়।
তারা আরো বলেন, এসডিএফের এমডি নূরুল আমিন, জিএম (ক্রয় ও আডমিন) হেদায়েতুল্লাহ এবং জিএম (এইচ আর) শহীদুল্লাহ এর দূর্নীতি ও বৈষম্যের কারনে ২০০০ এরও বেশি ষ্টাফ চাকুরী হারিয়ে পথে বসার পথে এবং ২০ লাখ কমিউনিটি (দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবার) সরকারী সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। কর্মীদের সাথে বৈষম্য, স্বেচ্ছাচারীতাও কোটি কোটি টাকা লোপাটের কারনে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক নাখোশ। এদের অনিয়ম ও স্বৈরাচারী আচরনের কারনে ফান্ড বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এই দূর্নীতিবাজরা ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর ফান্ড না থাকলেও এনরোলমেন্ট এর ২০০কোটি টাকা, সিপিএসপি এর ২০০ কোটি টাকা ও নুতন প্রকল্প বি-স্টং এর ৫০০ কোটি টাকা ফান্ড ব্যবহার করে নিজেদের ভবিষৎ আখের গোছানোর ধান্ধায় মসগুল আছেন। অনতিবিলম্বে এদের বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন কর্মকর্তা কর্মচারীরা এবং দূর্নীতি দমন বিভাগের এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষন করছেন তারা।