খবরের চোখ প্রতিবেদক:
চীন সরকারের অর্থায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হল নির্মাণের কাজ আগামী বছরের প্রথমার্ধেই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের খেলার মাঠে হল নির্মাণের সাইট পরিদর্শনে এসে তিনি কথা বলেন।
এই হলটি নির্মাণ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫০০ মেয়ে শিক্ষার্থীর আবাস্থলের ব্যবস্থা হবে। চীন সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় প্রায় ২শ ৪৪ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হবে।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এবং একটি চীনা কারিগরি দল ইতোমধ্যে ঢাকায় এসে ভবন নির্মাণের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কয়েকদিনের মধ্যে স্থানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমি আশা করি, আগামী বছরের প্রথমার্ধেই নির্মাণকাজ শুরু হবে।
তিনি বলেন, মেয়ে শিক্ষার্থীদের জরুরি শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে একটি নতুন শিক্ষা ভবন নির্মাণ করা হবে, যা চীন–বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি মাইলস্টোন হিসেবে বিবেচিত হবে। চীন সরকার বাংলাদেশের স্বীকৃত বন্ধু এবং আমরা মেয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ বিস্তারে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি দেওয়ার বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চীন সরকারের বর্তমানে দশ হাজারের বেশি বৃত্তি চালু আছে। আমি মনে করি এসব বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে অর্ধেক মেয়ে শিক্ষার্থী। আমাদের মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বৃত্তি নেই। তবে মেয়ে শিক্ষার্থীরা চাইলে বিদ্যমান বৃত্তি পেতে পারে।
এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান চীনের রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫৩ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী। সেই তুলনায় আমাদের আবাসিক সুবিধা নেই। আমরা চীন সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ যে তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য এ বিনিয়োগ করছে। চীনের ব্যয়ে নির্মিত হলটির নাম ‘চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী স্মারক’ হতে পারে বলে জানান উপাচার্য।
তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তারপর একটা নাম নির্বাচন করব। তবে আমাদের প্রস্তাবিত নাম ‘চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী স্মারক’।
এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মি. দেবাশীষ রায়, শামসুন্নাহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা ও চাইনিজ বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাংলানিউজ