রংপুর প্রতিনিধি:
গ্রীষ্মকালীন দেশি জাতের টমেটো চাষে উদ্যোক্তারা সাফল্য দেখছেন। এ সাফল্যে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলতেও সহায়তা পেয়েছে স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরের। এমনটি ঘটেছে রংপুরের পীরগাছায়। এখানে কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শে ও কারিগরি সহায়তায় পলিনেটের মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন বারি-৮ জাতের টমেটো চাষ করে এক মাসেই ব্যাপক ফলন পেয়েছেন কৃষক শাহজাহান হোসেন। বারি-৮ টমেটো খেতে সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। ফলে কৃষক দামও পাচ্ছেন ভালো। উপজেলা কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নের কল্যাণী ব্লকের কৃষক শাহজাহান হোসেন তার জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করতে চান। ওই কল্যাণী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জুলেখা আক্তার কৃষক শাহজাহান হোসেনকে গ্রাফকাটিং চারা রোপণের পরামর্শ প্রদান করেন।
কৃষক শাহজাহান হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জুলেখা আক্তারের পরামর্শ নিয়ে যশোর থেকে বারি-৮ জাতের ৪০ দিন বয়সের গ্রাফকাটিং ১২শ চারা ১৪ হাজার ৪শ টাকায় টমেটোর চারা ক্রয় করে ২০ শতাংশ জমিতে রোপণ করেননি। তিনি আরো জানান, গত এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে রোপণের পর এক মাসের মধ্যে গাছে টমেটো ধরা শুরু হয়েছে। এক মাসে প্রায় ১০৮ কেজি টমেটো ১শ টাকা কেজি দরে বিক্রয় করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে আশা করেন আগামী জুলাই-অক্টোবর পর্যন্ত টমেটো বিক্রয় করতে পারবেন। এতে খরচের তুলনায় লাভ অনেক বেশি হবে।
কল্যাণী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জুলেখা আক্তার জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কোনো উপকরণ দিতে না পারলেও তারা কৃষককে ভালো ফলন ফলানোর জন্য সকল ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন। সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান বলেন, গ্রীষ্মককালীন টমেটো চাষ পলিনেটের মাধ্যমে করলে ফলন ভালো হয়। তাই তারা কৃষককে পলিনেট ব্যবহার করার পরামর্শ প্রদান করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, গ্রীষ্ম মৌসুমে টমেটো চাষে ক্ষেতে সার ঔষধ বেশি প্রয়োজন হয় না। আর ক্ষেতে পোকামাকড়ও কম হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষক শাহজাহান হোসেন লাভবান হবে বলে আশা করছেন।