খবরের চোখ
সব সময়

সর্পমণী

0

- Advertisement -

মুনীরা তাবাসসুম:

- Advertisement -

বাংলাদেশের গণতন্ত্র সব সময় অ্যারোমেটিক ফিঙ্গারাইজ অর্থাৎ এক ধরনের সুড়সুড়ি অনুভূতি; বুদবুদের মত একটু পরেই মিলিয়ে যায়। বাংলাদেশে যে গণতান্ত্রিক চর্চা তা বুর্জোয়া ধরনের হলেও এখানে কখনোই প্রকৃত গণতন্ত্র আসে নাই। কারণ দলগুলোর ভেতরে সদস্যদের মধ্যে অধিকার ও সুযোগের সাম্যহীনতা একক ক্ষমতা কর্তৃত্ব। দলে যথার্থ জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা কখনোই বর্তায় নি । ফলে গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সেই অধিকার প্রয়োগ করে সার্বিক পরিস্থিতির উপর মানুষের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা কখনোই সম্ভব হয়নি । গণতন্ত্র শুধু ভোট নয় কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য ভোট দরকার এ কোথাও ভুলে গেলে চলবে না। বাংলাদেশের মতো বহুধা বিভক্ত মতপথের মতো একটি দেশে বাইরের শক্তিকে পরাহুত করে নিজস্ব কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা সুদূর পরহত,খানিকটা দুর্লভ। পৃথিবীর অনেক জাতি গোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হওয়া সত্বেও পারস্পরিক বিশ্বাসের কারণে বিশ্বের বৃহত্তম পরাশক্তিকে পরাজিত করেছে ,তাদের শাসকগোষ্ঠীকে গুপ্তহত্যার হাত হতে রক্ষা করেছে ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা বিরল নয়। কিন্তু সেই শক্তি তৈরি হয় ভেতর থেকে বাইরে থেকে ধার করা আদর্শভিত্তিক সমাজ জাতিগোষ্ঠীর দ্বারা তা কখনোই সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মতো দেশে গণতন্ত্র এসেছে এ কথা বলা যাবে না ।বাংলাদেশের যে গণতন্ত্রতা তা আরোপিত গণতন্ত্র। এখানে সাধারণের মতামত বা সিদ্ধান্তকে কখনোই সম্মান জানানো হয়নি। এখানে গণতন্ত্রের নামে এক শ্রেণীর মানুষ ধনী থেকে আরো ধনী হয়েছে ক্ষমতার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মধ্যে অর্থাৎ উচ্চ শ্রেণীর মধ্যে কোন্দল হয়েছে, জনগণের মধ্যে মৌলিক কোন চেতনার লড়াই কখনোই হয় নাই। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শাসন মানে ধনির শাসন । এখানে দলের প্রতি ত্যাগ, আনুগত্য, জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা ইত্যাদির চেয়ে অর্থ ক্ষমতা দম্ভের তোষণ বেশি। এজন্য নেতাকর্মীদের মধ্যেও এক অস্বাভাবিক লড়াই দেখতে পাওয়া যায়। যে কোন উপায়ে অর্থ , ক্ষমতা ও দম্ভর অর্জনের অসুস্থ চর্চা। লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে অর্থের জন্য চাঁদাবাজি, সরকারি ও জনগণের সম্পত্তি অবৈধভাবে জবরদখল, ক্ষমতার জন্য সন্ত্রাসীদের লালন পালন , প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে লিঁয়াজো রক্ষা করা। আর এই দুটো যখন অর্জিত হয়ে যায় তখন তাদের মধ্যে চলে আসে দম্ভের লীলা খেলা। প্রতিটি দলেরই হয়তো নির্দিষ্ট একটা আদর্শ থাকে , কিন্ত তা কতগুলো নিয়মাচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সেই আদর্শকে লালন করে সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াবার সাহস নেই কারোরই। সে আদর্শের জন্য জীবনকে তুচ্ছ করে মৃত্যুকে আনন্দ হিসেবে মেনে নেয়ার সুযোগ কোথায়? এসব দেশে বিপ্লব হয় কিন্তু অসন্তোষ কমে না । এখানে বিপ্লব মানেই গোলযোগ। ফলে মানুষ ভীষণ বিদেশ মুখো। অসন্তোষ আসে অসাম্য থেকে ধন বৈষম্যের কারণে। মানুষের মতামত কে অগ্রাহ্য করার কারণে ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার কারণে সামাজিক এবং জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কারণে। এই অসন্তোষ দূর করবার অনেক পুরাতন একটা পদ্ধতি সম্ভবত স্বাধীন চেতনাদের সরিয়ে দেয়া। যদিও এটা অনেক পুরাতন একটা পদ্ধতি বর্তমানে যেটির জনপ্রিয় তা হল জনগণকে সাংস্কৃতিকভাবে মিলিত হতে না দেয়া। এর কারণ হল সংস্কৃতি মানুষের চেতনাকে উচ্চ স্তরে নিয়ে যায় । ফলে মানুষের দৃষ্টি খুলে যায় । আর এমন লোকদের নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন । এর মাধ্যমে জনগণের বোধশক্তিকে স্থিমিত রাখা হয় । বাংলাদেশের মানুষকে তাদের প্রকৃত শিক্ষা থেকে দূরে রাখা হয় যেন জনগণ শাসকের উপর নির্ভরশীল হন। শাসকগণ জনগণকে বোধহীন সত্তা হিসেবে দেখতে চান। বাংলাদেশের যে গণতন্ত্র তা অধিকাংশের শাসনব্যবস্থা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আজ রাষ্ট্রের শাসন ভার গ্রহণ করবার যে প্রক্রিয়া তা সম্ভবত অনেকটাই মনসার ধনে পরিনত হয়েছে। অনেকেই রাষ্ট্রের কোন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হবেন তাও মনস্হির করে ফেলেছেন। কিন্ত সাপের মাতা হতে মুকুট নেবার সাহস কারো নেই। কারন শুরুতেই বলেছিলাম এইসব দেশের শাসক গন জনগনের ইচ্ছা হতে যোজন যোজন দুরে অবস্থান করেন। ফলে ভেতর থেকে এমন শক্তি তৈরি হয় না যা বাইরের শক্তিকে পরাস্ত করবে। বুড়ো ওঝা ফুঁকতাক করছেন বটে তবে ভুলভাল মন্ত্র জপের কারনে মনসা খুব একটা খুশি তা বলা যাচ্ছে না। জলে নেমে জাগুয়ার রা কুমির শিকার করে। যদিও সাধারণ্যে কুমিরকে অনেক শক্তিশালী মনে করে। ডিএস অনেক চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলেও তা অনেক সময় মানব শরীরে প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। কাজেই সব ক্ষেত্রে ডিএস ভালো হবে এমনটা না ভাববার ও যথার্থ কারন রয়েছে।
(লেখক ও গবেষক মুনীরা তাবাসসুম)

- Advertisement -

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.