খবরের চোখ
সব সময়

ইউরোফাইটার টাইফুন কিনছে বাংলাদেশ

0

খবরের চোখ প্রতিবেদক:

দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনতে এবং বিমানবাহিনীর সম্মুখ সারির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর যৌথভাবে তৈরি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছে। টাইফুন যুদ্ধবিমান ক্রয়ের এই প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ইতালির বহুজাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লিওনার্দো এসপিএ এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহপত্রে স্বাক্ষর করেছে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ একটি উন্নত প্রযুক্তির মাল্টি–রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট, যা একই সাথে বহুবিধ যুদ্ধ কৌশল পরিচালনায় সক্ষম। এই যুদ্ধবিমানটি বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হলে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও আধুনিক হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মনে করেন, টাইফুন যুদ্ধবিমান ক্রয়ের উদ্যোগ দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কৌশলের গুরুত্ব বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে। টাইফুনের মতো চতুর্থ প্রজন্মের উন্নত যুদ্ধবিমান আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমিতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর।

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই আগ্রহপত্র স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির সাক্ষী ছিলেন।

আইএসপিআর-এর ভাষ্যমতে, আগ্রহপত্র সই হওয়ার মাধ্যমে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার দিকে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ পরিকল্পনার একটি অংশ, যা ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ অনুসারে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও কার্যকর করে তোলার লক্ষ্য স্থির করেছে।

জানা গেছে, টাইফুন যুদ্ধবিমান ইউরোপের চারটি দেশ—যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি এবং স্পেনের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত। এই বিমানগুলো মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বহু দেশের বিমানবাহিনীতে বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিমানবাহিনী সূত্র জানিয়েছে, এখন আগ্রহপত্র সই হওয়ার পর উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিমানের সংখ্যা, মূল্য, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং পাইলট প্রশিক্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দর-কষাকষি শুরু হবে।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.