খবরের চোখ
সব সময়

কলাবাগান থানার ওসিসহ দুই এসআই বরখাস্ত

চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার:

গভীর রাতে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ডিবি পরিচয়ে এক বাসায় ঢুকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের অভিযোগে রাজধানীর কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামানসহ দুই এসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে ৷

শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট আব্দুল ওয়াদুদের অভিযোগ, গত ২৯ এপ্রিল রাতে তার বাসায় ঢুকে ওই ঘটনা ঘটান পুলিশ সদস্যরা ৷

রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদ আলম জানান, অভিযোগকারী ডিএমপি কমিশনারের কাছে অভিযোগ দায়েরের পর কলাবাগান থানার ওসির সঙ্গে এসআই মান্নান ও বেলালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় ৷
ডিসি মাসুদ আলম আরও জানান, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ডিএমপি সদর দপ্তর ৷ এর প্রেক্ষিতে প্রথমে ওসি ও দুই এসআইকে প্রত্যাহার করে রমনা বিভাগে সংযুক্ত করা হয় ৷ পরে তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে ৷ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে ৷

কলাবাগান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, ওসি মোক্তারুজ্জামান গতকালই সব বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেছেন ৷

কলাবাগান থানাধীন সোনারগাঁও রোডের বাসিন্দা আব্দুল ওয়াদুদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২৯ এপ্রিল রাত দেড়টার দিকে কলাবাগান থানার এসআই বেলালের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য ও ১৫/২০ জনের একদল সন্ত্রাসী তার বাড়িতে জোরপূর্বক ঢুকে পরে ৷

অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় আমার ম্যানেজার ৯৯৯ -এ টেলিফোন করলে এক গাড়ি পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয় ৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই শাহবাগ ও নিউমার্কেট থানার টহল টিমের দুটি গাড়ি এসে বাড়ি সংলগ্ন মেইন রাস্তায় থামে ৷ আমার ম্যানেজার দেখতে পান কলাবাগান থানার ওসি মোক্তারুজ্জামান শাহবাগ ও নিউমার্কেটের টহল টিমকে চলে যেতে বলেন ৷

তখন এক ভাড়াটিয়া ও নাইট গার্ড ওই টহল টিমকে বিষয়টি জানাতে চাইলে কলাবাগান থানার ওসি তাদের দুজনকে পুলিশের গাড়িতে তোলার নির্দেশ দেন, যা বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ রয়েছে ৷

এদিকে বাড়ির মধ্যে ঢুকে কয়েকজন পুলিশ আব্দুল ওয়াদুদের ঘরের তৃতীয় তলার দরজা ভাঙার চেষ্টা করে ৷ গভীর রাতে সন্ত্রাসী তান্ডব ও দরজা ভাঙার শব্দে আশপাশের লোকজনদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয় ৷ একটি দরজা ভাঙার পর দ্বিতীয় দরজা ভাঙার সময় তিনি কলাবাগান থানার ওসিকে সাহায্যের জন্য ফোন দেন ৷ ওই সময় ওসি তাকে পুলিশের সঙ্গে বের হয়ে আসতে বলেন ৷ সেই সঙ্গে আরও বলেন, ডিবির লোক এসেছে তাদেরকে সহযোগিতা করতে ৷

অভিযোগে আরও বলেন, কোনো উপায় না দেখে পুলিশের সঙ্গে থানায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করি এবং দরজা খুলে দেই ৷ কিন্তু দরজা খোলার সাথে সাথেই এসআই বেলাল আমাকে ধাক্কা মেরে আবার ঘরের ভেতরে টেনে নেয় এবং উগ্রভাবে আমার কাছে কী কী অস্ত্র আছে তা জানতে চায় ৷

কিছুক্ষণ পর মান্নান নামের একজন এসআই আমাকে একটু আড়ালে নিয়ে বলেন, এই মুহুর্তে ১ কোটি টাকা দিতে পারলে আমার থানায় যেতে হবে না ৷ বাড়িতে রেখে যাবে ৷ কী মামলা হয়েছে জানতে চাইলে তারা জানায়, কোনো মামলা হয়নি ৷ তারা টাকার জন্য এসেছে ৷ যদি টাকা না দেই তাহলে আমার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা দেওয়া হবে ৷

অভিযোগে আরও বলেন, উপায় না পেয়ে ২ লাখ টাকা এসআই বেলালের হাতে দেই ৷ ব্যাংকিং আওয়ারের মধ্যে বাকি টাকা দেওয়ার শর্তে ৩ জন সিভিল পোষাক পরা ব্যক্তিকে আমার পাহারায় রেখে যায় ৷ তারা নিজেদেরকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়েছে ৷ এমনকি যাওয়ার সময় এসআই বেলাল বাড়িতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এরকম একটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ভিডিও ধারণ করে নিয়েছে ৷

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.