খবরের চোখ
সব সময়

২১ বছর পর আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড, মেসির নতুন অভিজ্ঞতা

0

খেলাধুলা ডেস্ক

ফুটবল মাঠে এমন কিছু খুব কমই আছে যা করে দেখাননি লিওনেল মেসি। তবে বুধবার আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালটি হতে যাচ্ছে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর জন্য একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা।

আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০টিরও বেশি ম্যাচ খেলে ১২৫ গোল করলেও মেসি কখনোই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেননি।

শনিবারের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে দারুণ চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিল সুইজারল্যান্ড। তখন মনে হচ্ছিল ৩৯ বছর বয়সী মেসি হয়তো প্রথমবার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ হারাবেন। তবে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচটি ৩-১ ব্যবধানে জিতে নেয়।

সে ম্যাচে মেসি প্রথমবার গোল করতে ব্যর্থ হন, যদিও তিনি এখনও গোল্ডেন বুট দৌড়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে শীর্ষে আছেন—এখন পর্যন্ত আট গোল করেছেন এবং বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।

ফুটবল বিশ্লেষক মাইকা রিচার্ডস বলেন, ইংল্যান্ড গতিতে আর্জেন্টিনাকে ছাপিয়ে যেতে পারে, কিন্তু তাদের কাছে আছে সেই ক্ষুদে জাদুকর মেসি। সবাই তার জন্যই খেলে। তাকে মার্ক করা অসম্ভব কারণ সে পিছনে দৌড়ায় না, ছোট ছোট জায়গায় ঢুকে পড়ে। সঠিক সময়ে জ্বলে ওঠে, তার টেকনিক অসাধারণ, স্পেস বোঝার ক্ষমতা দুর্দান্ত, শট দুর্দান্ত। সবচেয়ে বড় কথা, মাঠে তার ব্যক্তিত্ব ও প্রভাব আছে—যা জুড বেলিংহ্যামেরও আছে। তবে মেসির প্রভাব অন্য স্তরে।

আরেক বিশ্লেষক ক্রিস সাটন বলেন, এটা খুব শক্তিশালী আর্জেন্টিনা দল নয়, তবে তারা সবসময় কোনো না কোনোভাবে জিতে যায়। তাই ইংল্যান্ড খেলোয়াড়রা এই ম্যাচের জন্য মুখিয়ে থাকবে।

ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ফুটবলার ওয়েইন রুনি বলেন, মেসি রক্ষণে খুব বেশি অবদান রাখে না, তবে বড় মুহূর্তে ম্যাচ নির্ধারণ করে দেয়। তাকে মার্ক করার মূল বিষয় হলো মনোযোগ ও সতীর্থদের সঙ্গে যোগাযোগ।

দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল বিশেষজ্ঞ টিম ভিকারি বলেন,“মেসি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করতে পারে না ইংল্যান্ডের বিপক্ষে না খেলে। আর্জেন্টাইন সমর্থকরা ইংল্যান্ডকে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে।

ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচ সবসময়ই উত্তেজনাপূর্ণ। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল থেকে শুরু করে ১৯৯৮ সালে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড— সবকিছুই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দিয়েছে নতুন মাত্রা। প্রায় ২১ বছর পর আবার মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।

মেসি ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেকের পর একবারই ইংল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচ হয়েছে, তবে তিনি সেই ম্যাচে খেলেননি। হাঙ্গেরির বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়ায় তিনি সাসপেন্ড ছিলেন। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ড ৩-২ গোলে জিতেছিল।

সেই মেসি আজ আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলোয়াড় ও গোলদাতা। ২০২২ বিশ্বকাপে দেশকে শিরোপা জেতানোর পর তার কিংবদন্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে।

তার গোলের রেকর্ডে দেখা যায়, বলিভিয়ার বিপক্ষে তিনি সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন—১২ ম্যাচে ১১ গোল। ভেনেজুয়েলা ও ইকুয়েডরের বিপক্ষে সাতটি করে গোল, উরুগুয়ের বিপক্ষে ছয়টি এবং ব্রাজিলের বিপক্ষে পাঁচটি গোল করেছেন। ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষেও তিনি কার্যকর ছিলেন—ক্রোয়েশিয়া, সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের বিপক্ষে তিনটি করে গোল করেছেন।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.