শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী ও ঝরে পড়া রোধে সরকারের নানা উদ্যোগ: ববি হাজ্জাজ
সিনিয়র রিপোর্টার
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে ও ঝরে পড়া রোধে নেওয়া সরকারের নানা উদ্যোগ নিয়েছে ৷ কোনো শিশু যেন শিক্ষার বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যে আগামী ১৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কার্যক্রমের পাইলটিং উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল প্রকল্পের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে তা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ৷
রবিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতি ত্বরান্বিতকরণ: মূল্যায়ন থেকে পদ্ধতিগত পদক্ষেপ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে রেমিডিয়াল এডুকেশন বা নিরাময়মূলক শিক্ষার ঘাটতি থাকার কারণেই মূলত প্রাইভেট টিউশন সেই জায়গাটি দখল করে নিচ্ছে।
বিভিন্ন শিক্ষাবিষয়ক জরিপে দেখা গেছে, দেশের অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পরিবারে আয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ খরচ হয় সন্তানের শিক্ষার পেছনে। কিন্তু সরকারি বা বেসরকারি কোনো স্কুলেই টিউশন ফি এতটা বেশি হতে পারে না। এই অর্থের বড় অংশই চলে যায় প্রাইভেট টিউশনে।
ব্যক্তিগত জীবনের উদাহরণ টেনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার নিজের দুই কন্যার জন্যও প্রতিটি বিষয়ে আলাদা শিক্ষক রাখতে হচ্ছে।
বাংলাদেশে এটি যেন এক ধরনের স্বাভাবিক মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। অভিভাবক হিসেবে প্রতি বিষয়ে গৃহশিক্ষক না রাখলে মনে হয় তিনি সন্তানকে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হচ্ছেন– এমন একটি মানসিকতা তৈরি হয়েছে, যা পরিবর্তন করা দরকার। তবে শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ কোরিয়া বা তাইওয়ানের মতো উন্নত দেশগুলোতেও প্রাইভেট টিউশনের ব্যাপকতা রয়েছে।’
ববি হাজ্জাজ বলেন, ফাউন্ডেশনাল লার্নিং বা মৌলিক শিখন নিশ্চিত করতে আমরা কাজ শুরু করেছি। বর্তমানে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থীর বাংলা শেখার মৌলিক দক্ষতা নেই। এমনকি দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ার দক্ষতাও অনেক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত। এ ধরনের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে রেমিডিয়াল এডুকেশন অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মমুখী ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সে লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই ‘স্টিম’ এডুকেশন, আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা এবং বিজ্ঞান ও গণিতচর্চা বাড়াতে কারিকুলামে ‘সায়েন্স টয়েস’ ও ‘ম্যাথ ল্যাব’ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে প্রতিটি শিক্ষার্থীর অগ্রগতি ট্র্যাকিংয়ের জন্য প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষক নীতিমালা যুগোপযোগী করা, তদারকি ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রজেক্টগুলোকে দর্শন নির্ভর না করে বাস্তবমুখী ও কার্যকরী করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই), এনসিটিবি, ন্যাপ, বিএনএফই এবং ইউনিসেফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), ব্রিটিশ কাউন্সিল, রুম টু রিড ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।